• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ধানাই পানাই মানবো না: জামায়াত আমির

নিউজ ডেস্ক: / ৩৭ Time View
Update : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নাই, কোনো ধানাই পানাই মানবো না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আমাদের অনেক লোভ দেখানো হয়েছে- সব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করবো না। জনগণের রায়কে অপমান করবো না। আর যদি গণভোটের রায় ব্যর্থ হয়, জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে। জনগণ ধিক্কার দেবে, সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা নেবো না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাবি শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন চায় না, নির্বাচন কমিশন চায় না। আগের ফ্যাসিবাদী আলোকে সবকিছু রাখতে চায়। এজন্য তারা গণভোটের গণরায় মানতে চায় না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি- এ রায় বাংলার জমিনে বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।

গণভোটের রায় ব্যর্থ হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে এবং জনগণ সরকারকে ধিক্কার দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা (বিরোধীদল) নেবো না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছে, আল্লাহর মেহেরবানিতে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। আমরা সংসদে ও রাজপথে লড়াই করবো। দাবি সংসদে আদায় হলে আলহামদুলিল্লাহ, না হলে রাজপথে আন্দোলন করে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এখন স্বৈরশাসকের ভাষায় বিভিন্ন কথা বলছে। তাদের চেলাচামুন্ডারা ও বটবাহিনী মানুষের ইজ্জত নিয়ে খেলে। আবার সেই ফ্যাসিবাদ!

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম হতে দেওয়া হবে না। গণরুম, গেস্টরুমের কবর হয়ে গেছে চব্বিশে- সেটা আর ফিরে আসবে না। এখন কেউ ফিরিয়ে আনতে চাইলে তাদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এটা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখনো রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি বলে মনে করবেন না ঘুমিয়ে গেছি।

তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস হবে না। কোনো অপশক্তির কাছে মাথাও নত করা হবে না। দেশীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক- এটা যাই হোক। যুবকদের প্রত্যাশার, আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার জন্য বাকি জীবনকে আমরা উজাড় করে দেবো। যুবকদের সঙ্গে থেকে লড়াই করবো, যুবকদের সঙ্গে ও সম্মুখভাগে থেকে মুক্তির আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না- প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ওয়াদা করে গেলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামাল হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান প্রমুখ।

পরে জামায়াত আমির নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে ডাকসু নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category