• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

ঢাকার তিন বস্তির আধুনিকায়নে চীনের ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ!

নিউজ ডেস্ক: / ১২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

রাজধানীর গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বিনিয়োগে সম্মতি জানিয়েছে চীন। তবে একসঙ্গে পুরো অর্থ বিনিয়োগ সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ করবে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ সম্মতি দেন।

বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুলশান এরিয়া এবং ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকায় যে তিনটি বস্তি রয়েছে, করাইল, সাততলা বস্তি এবং ভাসানটেক, এ ব্যাপারে আমরা একটা প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাদের আবাসন ডেভেলপ করে দেওয়ার জন্য দিয়েছি। আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা হবে, যেখানে তারা ফ্রি বসবাস করতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বা ইআরডির মাধ্যমে চীনের কাছে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। তারা প্রস্তাবটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘তারা বলেছে, পুরোটা যদি একসাথে আমরা নাও পারি, আমরা প্রায়োরিটি বেসিসে পর্যায়ক্রমে এখানে ইনভেস্ট করব।’

প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তলা ভবনে ছোট ছোট আবাসিক ইউনিট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ বর্গফুট। এসব বাসায় বর্তমান বস্তিবাসীদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে। তাদের কাছ থেকে মাসিক ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের খরচ তাদের বহন করতে হবে বলেও জানান মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আছে, আমরা অলরেডি তালিকা করছি এবং যারা আছে কেউ বঞ্চিত হবে না। সবাইকে দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, বস্তিগুলোতে বর্তমানে বসবাসরত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আবাসনের আওতায় আনা হবে।
এছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন ও ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের বাইরে জনশক্তি রপ্তানির জন্য দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন শেখাতে চীন থেকে প্রশিক্ষক আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেবে না বলে চীনা পক্ষ জানিয়েছে।

মীর শাহে আলম জানান, চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দর উন্নয়নেও চীনের আগ্রহ রয়েছে। মোংলা বন্দর উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে এর সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক সফর ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category