বগুড়ায় ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অপহৃত চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে শহরের পুরান বগুড়া এলাকার শেরেবাংলা নগরের একটি দোতলা বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার ও অপহৃতকে উদ্ধার করে জেলা ডিবি পুলিশ । গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. বাদশা মিয়ার ছেলে মো. সজীব আহম্মেদ (৩২), জেলার শিবগঞ্জের কামতারা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত ইছাহাক প্রামাণিকের ছেলে মো. লজিম প্রামাণিক (৪০) এবং মালগ্রাম উত্তরপাড়া এলাকার মো. মামুন শেখের ছেলে মো. সোহান শেখ (১৮)।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে জানানো হয় , গত বুধবার রাতে সিএনজিচ অটো চালক রফিকুল ইসলামকে (৪৩) একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে শহরের পুরান বগুড়ার একটি বাসায় আটকে রেখে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে রফিকুলকে বিবস্ত্র করা হয় এবং তাঁর কাছে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর রফিকুলের স্ত্রী হাজেরা বেগমের ফোনে কল দিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয় অপহরণকারীরা। রফিকুলকে আদালতের মাধ্যমে চালান করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্বজনেরা টাকা দিতে না চাইলে ফোনে রফিকুলের কান্নাকাটি ও চিৎকার শোনানো হয়। নিরুপায় হয়ে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ডিবি অফিসে উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানান চালকের স্ত্রী হাজেরা বেগম।
অভিযোগের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে পলাতক আসামি মেহেদী হাসান শিহাবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা। ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলামকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়াও গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন এবং ছিনতাইকৃত ও আদায়কৃত নগদ ২ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকবাল বাহার জানান, ভুয়া ডিবি পরিচয়ে অপহৃত চালককে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। তাদের মধ্যে লজিম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতে চুরিসহ দুটি মামলা বিচারাধীন। এই ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।