প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেল লাইন নির্মাণ কাজ শিঘ্রই শুরু হবে। সেই সাথে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানীর সুবিধার্থে বগুড়া বিমান বন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করবেন বলেও ঘোষনা দেন তিনি। পাশাপাশি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং সেখানে কৃষিসহ বিভিন্ন বিভাগ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। সোমবার বিকেলে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর পত্নী ডা: জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
জনসভা শেষে তারেক রহমান বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন এবং বাইতুর রহমতান সেন্ট্রাল জামে মসজিদের পূণ:নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এর আগে বগুড়ায় এসে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন প্রধানমন্ত্রী।
মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে যখন নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে ঠিক সেই মুহুর্তে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে এবং বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমরা দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। ৮৬ সালের নির্বাচনে তারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। ৯৬ সালেও তারা স্বৈরাচারের সাথে নিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। ২০০৮ সালে ওয়ান ইলেভেনের সাথে যোগ দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ৫ আগষ্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের ভূত বিরোধী দলের ঘাড়ে চেপেছে। তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছর দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা এবং ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার সাথে দেশর মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পারাতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকার মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দূর্নীতি করেছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দেশটাকে নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু করেছি। নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যেই ফ্যামিকার্ড, কৃষি কার্ড এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের সম্মানী দিয়েছি। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। স্বল্প খরচে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানীর জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা চলছে। অচিরেই সুখবর আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া জাতির সামনে সংষ্কার প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে আমরা জাতির সামনে ৩১ দফা সংষ্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি। অন্তর্বর্তী সরকার সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে যে জুলাই সনদ তৈরি করেছে বিএনপি সেটাতে সবার আগে স্বাক্ষর করেছে। আমরা যেই সনদে স্বাক্ষর করেছি সেই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করবো। আমরা বারবার এই কথাটি পরিস্কার ভাবে বলার পরেও কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যারা জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তারা নারীর উন্নয়ণ, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে কোন কতা বলেনা। মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কথা বলেনা। কিভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে সেই কথা বলেনা। তারা শুধু জুলাই সনদ নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তিনি বলেন, আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। আমরা দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। ৮৬ সালের নির্বাচনে তারা দেশর মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। ৯৬ সালেও তারা স্বৈরাচারের সাথে নিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। ২০০৮ সালে ওয়ানন ইলেভেনের সাথে যোগ দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। তিনি ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।