আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সারাদেশের ন্যায় বগুড়া জেলার ৭টি আসনে ৩৪ জনের মাঝে প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার তৌফিকুর রহমান তার কার্যালয় থেকে প্রতিক বরাদ্দ দেন। এবারের নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে ৩৪ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছেন।
আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকেই পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু হবে। ৭টি আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৯৮৭১জন, নারী ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪২ জন।

বগুড়া-১: সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৯ জন, নারী ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭২০ জন এবং হিজড়া ভোটার ৫ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম (দানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর শাহাবুদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা (হাতপাখা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোঃ আসাদুল হক (ডাব) এবং গণফোরামের জুলফিকার আলী (উদীয়মান সূর্য)।
বগুড়া-২ (শবিগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ জন, নারী ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ৫ জন। এখানে ভোটের মাঠে লড়ছেন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবুল আজাদ মোহাম্মাদ শাহাদুজ্জামান (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মীর শাহে আলম (ধানের শীষ), নাগরিক ওইক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি), ইসলামী আন্দোলনের জামাল উদ্দিন (হাতপাখা), স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু (সিড়ি), গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার (ট্রাক) এবং জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (লাঙ্গল।

বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৩ জন। পুরুষ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৪৭, নারী ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২৩ এবং হিজড়া ভবাটার ৩ জন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন জামায়াতের নূর মোহাম্মাদ (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের শাহজাহান আলী তালুকদার (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির শহিদুল ইসলাম (লাঙ্গল)।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩ জন। পুরুষ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮৫, নারী ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৩০ এবং হিজড়া ভোটার ৮ জন। এ আসনে ভোটের মাঠে আছেন জামায়াতের ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মোশারফ হোসেন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল)।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে রয়েছে জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটার। মোট ভোটার ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০জন। পুরুষ ২ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭, নারী ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ এবং হিজড়া ভোটার ৬ জন। এ আসনে প্রার্থী রয়েছেন জামায়াতের মোঃ দবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ (ধানের শীষ), এলডিপির খান কুদরত ই সাকলায়েন (ছাতা), ইসলামী আন্দোলনের মীর মোঃ মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির শিপন কুমার রবিদাস (কাস্তে)।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। পুরুষ ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬, নারী ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন। দেশের অন্যতম ভিভিআইপি আসন হিসেবে চিহ্নিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতের বগুড়া শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের আবু নুমান মোঃ মামুনুর রশিদ (হাতপাখা), জেএসডির আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি (তারা), বাসদের দিলরুবা (মই)।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মোট ভোটার ভোটার ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯২ জন। পুরুষ ২ লাখ ৭০ হাজার ৭০, নারী ২ লাখ ৬৮ হাজার ১৭ এবং হিজড়া ভোটার ৫ জন। এখানে বিএনপির মোর্শেদ মিল্টন (ধানের শীষ), জামায়াতের গোলাম রব্বানী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং মুসলিম লীগের আনছার আলী (হারিকেন) প্রতিকে লড়বেন।
জামায়াতে ইসলামীর সকল প্রার্থী জেলা রিটার্নিং অফিসারের নিকট থেকে প্রতিক বরাদ্দ নিলেও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা প্রতিক বুঝে নিয়েছেন। প্রতিক পাওয়ার পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় সব প্রার্থী নিজেকে যোগ্য দাবী করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের বিজয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।